ইফতারের আর আধঘণ্টা বাকি। রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটার শব্দ, চুলায় ছোলার হাঁড়ি, আর পাশ থেকে কারও আবদার, ‘আজকে পেঁয়াজু হবে তো?’
এদিকে ফ্রিজ খুলে দেখা গেল শসা আছে, টমেটো আছে, গতকালের সেদ্ধ আলুও আছে। কিন্তু কী বানানো যায়, সেটাই মাথায় আসছে না!
রমজানে অনেক বাড়িতেই এমন ছোটখাটো বিপদ দেখা দেয়। প্রতিদিন একই ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি খেতে খেতে একসময় পরিবারের কেউ না কেউ বলে বসেন, ‘আজ একটু অন্য কিছু করা যায় না?’
অন্য কিছু মানেই আবার ঘণ্টাখানেক রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থাকা? মোটেও না। খেজুর, বাদাম, ডিম, চিড়া কিংবা ঘরে থাকা কয়েকটা সবজি দিয়েই ইফতারে বেশ মজার আয়োজন করা যায়। কিছু খাবার বানাতে চুলাও ধরাতে হবে না। আর কয়েকটা এত সহজ যে রান্নায় হাতেখড়ি হচ্ছে, এমন কেউও নিশ্চিন্তে চেষ্টা করতে পারবেন।
ইফতারের জন্য এমন ১০টি সহজ খাবারের আইডিয়া থাকছে, যেগুলোতে খরচ ও ঝামেলা তুলনামূলক কম, আবার স্বাদেও একঘেয়েমি আসবে না।
1. খেজুরের ভেতর বাদামের চমক
ইফতারের টেবিলে খেজুর থাকবে, এটা তো জানা কথা। কিন্তু সেই খেজুরের ভেতর যদি একটা কাঠবাদাম বা আখরোট লুকিয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ খেজুরও একটু বিশেষ হয়ে যায়।
খেতে বসে কেউ হয়তো বলেই ফেলবেন, ‘আরে, খেজুরের ভেতরে আবার বাদাম কে ঢুকিয়েছে?’
যা লাগবে ও যেভাবে বানাবেন
উপকরণ: ৬টি খেজুর, ৬টি কাঠবাদাম বা লবণহীন ভাজা চিনাবাদাম এবং চাইলে সামান্য নারকেল কুচি।
খেজুরের এক পাশ লম্বা করে চিরে বিচি বের করুন। ভেতরে একটি করে বাদাম ঢুকিয়ে দিন। বাদাম বড় হলে ভেঙে নিতে পারেন। ওপরে অল্প নারকেল কুচি ছড়িয়ে দিলেই তৈরি। সময় লাগবে প্রায় ৫ মিনিট; চুলাও ধরাতে হবে না।
মজার ব্যাপার হলো, এখানে বাড়তি চিনি কিংবা সিরাপ দেওয়ার দরকার পড়ে না। খেজুরের নিজের মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে বাদামের মচমচে ভাব বেশ ভালো মানিয়ে যায়।
ছোট্ট বুদ্ধি: কাঠবাদাম না থাকলে ভাজা চিনাবাদাম ব্যবহার করুন। শিশুদের জন্য বয়স অনুযায়ী বাদাম উপযুক্তভাবে ছোট করুন; বাদামে অ্যালার্জি থাকলে এড়িয়ে চলুন।
2. দই-খেজুরের ঠান্ডা বাটি: মিষ্টি খাওয়ার ছোট্ট বাহানা

সারাদিন রোজা রাখার পর ঠান্ডা কিছু খেতে ইচ্ছে করতেই পারে। কিন্তু প্রতিদিন শরবতে বাড়তি চিনি না মিশিয়ে মাঝেমধ্যে টক দই আর খেজুর দিয়ে এই বাটিটা বানানো যায়।
দুইজনের জন্য এক কাপ টক দই, ৩–৪টি খেজুর, একটি ছোট কলা আর এক টেবিল চামচ বাদাম কুচি নিন।
খেজুরের বিচি ফেলে ছোট করে কেটে নিন। কলাও টুকরা করুন। এবার দইয়ের সঙ্গে সবকিছু মিশিয়ে ১০–১৫ মিনিট ফ্রিজে রাখুন। খাওয়ার আগে বাদাম ছড়িয়ে দিন।
ব্যস, হয়ে গেল!
কলার নরম ভাব, খেজুরের মিষ্টতা আর বাদামের হালকা মচমচে স্বাদ—এক বাটিতেই বেশ কয়েক রকমের স্বাদ পাওয়া যায়। দই বেশি টক হলে পাকা কলার পরিমাণ সামান্য বাড়াতে পারেন।
আর বাসায় কেউ যদি মিষ্টির জন্য আলাদা বায়না ধরেন, তাঁর সামনে বাটিটা রেখে দেখতে পারেন। অবশ্য জিলাপিপ্রেমীদের মন বদলানোর নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন!
3. বাদাম-মুড়ির ঝালমুড়ি, তবে একটু অন্যভাবে

ঝালমুড়ি বানাতে আবার রেসিপি লাগে নাকি?
লাগে না বটে, কিন্তু ইফতারের সময় বাদাম আর সবজি দিয়ে একটু যত্ন করে বানালে এই পরিচিত খাবারটাও বেশ জমে যায়।
একটি বড় বাটিতে নিন দুই কাপ মুড়ি, আধা কাপ শসা কুচি, একটি ছোট টমেটো, দুই টেবিল চামচ ভাজা চিনাবাদাম, অল্প পেঁয়াজ কুচি, ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচ। স্বাদ অনুযায়ী লবণ, লেবুর রস এবং চাইলে আধা চা-চামচ সরিষার তেল দিন।
সবকিছু আগে কেটে রাখুন। ইফতারের ঠিক আগে মুড়ির সঙ্গে মেশাবেন।
কারণ, ঝালমুড়ির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সময়। একটু বেশি আগে মাখালেই সেই মচমচে মুড়ি নরম হয়ে যায়।
এখানে বাদাম বাড়তি স্বাদ যোগ করে, আর শসা-টমেটো খাবারটাকে বেশ সতেজ রাখে। বাসায় সিদ্ধ ছোলা থাকলে দুই-তিন চামচ মিশিয়ে আরও ভরাট নাস্তা বানানো যায়।
4. ছোলা-শসার টকঝাল সালাদ

ছোলা ছাড়া বাংলাদেশের ইফতারের আয়োজন কেমন যেন অসম্পূর্ণ লাগে। কিন্তু প্রতিদিন তেল-মসলায় কষানো ছোলা খেতে ভালো না লাগলে একদিন সালাদ বানিয়ে দেখুন।
দুইজনের জন্য উপকরণ: এক কাপ সিদ্ধ ছোলা, আধা কাপ শসা কুচি, একটি ছোট টমেটো, পেঁয়াজ কুচি, ধনেপাতা, লেবুর রস এবং সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া।
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ঝাল পছন্দ হলে কাঁচা মরিচ দিন। লবণ ও লেবুর পরিমাণ নিজের স্বাদ অনুযায়ী ঠিক করুন।
এই সালাদের মজাটা টক, ঝাল আর নরম ছোলার মিশ্রণে। এক চামচে কখনো ছোলা, কখনো মচমচে শসা, কখনো লেবুর টক স্বাদ।
সময় বাঁচানোর কৌশল: ছোলা আগে থেকে সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিলে ইফতারের আগে পাঁচ মিনিটেই বানানো সম্ভব। শুকনা ছোলা ব্যবহার করলে আগের রাতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন ভালোভাবে সিদ্ধ করে নেবেন।
আর হ্যাঁ, ছোলার সালাদ বানাতে গিয়ে সব মসলা একসঙ্গে ঢেলে দেওয়ার দরকার নেই। লেবু আর ভাজা জিরাই অনেক সময় যথেষ্ট।
5. আলু-ডিমের ছোট্ট টিকিয়া

বাসায় দুটি আলু আর একটি ডিম থাকলে ইফতারের নাস্তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না।
প্রথমে মাঝারি আকারের দুটি আলু সিদ্ধ করে মেখে নিন। সঙ্গে একটি সিদ্ধ ডিম কুচি, সামান্য পেঁয়াজ, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ ও লবণ মেশান। মিশ্রণ বেশি নরম হলে এক-দুই চামচ ব্রেডক্রাম্ব বা আটা দিতে পারেন।
এবার হাতে ছোট ছোট চ্যাপ্টা টিকিয়া বানান। ননস্টিক প্যানে অল্প তেল দিয়ে মাঝারি আঁচে দুই পাশ সোনালি করে ভেজে নিন।
বাইরে হালকা মচমচে, ভেতরে নরম আলু আর ডিমের পুর।
বাড়ির ছোটদের জন্য মরিচ বাদ দিয়েও বানানো যায়। চাইলে বিকেলে আগেই টিকিয়াগুলো তৈরি করে ফ্রিজে রাখুন, ইফতারের আগে শুধু ভেজে নিলেই হবে। ভালোভাবে গরম করে পরিবেশন করুন।
এই খাবারের একটা সুবিধা আছে—ফ্রিজে পড়ে থাকা সেদ্ধ আলুরও সম্মানজনক একটা গতি হয়!
6. কলা-চিড়ার মিষ্টি মাখা: শৈশবের চেনা স্বাদ

কিছু খাবারের সঙ্গে স্মৃতি এমনভাবে জড়িয়ে থাকে যে নাম শুনলেই বাড়ির কথা মনে পড়ে। কলা-চিড়ার মাখা অনেকের কাছেই তেমন একটা খাবার।
এতে নেই তেলেভাজার ঝামেলা, নেই মসলা কষানোর ব্যাপার।
এক কাপ পাতলা চিড়া পরিষ্কার করে অল্প পানিতে দ্রুত ধুয়ে ঝরিয়ে নিন। এরপর একটি পাকা কলা চটকে মেশান। দিন দুই-তিন টেবিল চামচ দুধ বা টক দই, সামান্য নারকেল কুচি আর চাইলে কয়েক টুকরা খেজুর।
মিশিয়ে কয়েক মিনিট রেখে পরিবেশন করুন।
চিড়া বেশি সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না। তাহলে মাখার বদলে এমন নরম হয়ে যাবে যে চামচে তুলে খেতেই হবে!
এখানে পাকা কলা ও খেজুর মিষ্টতা দেয়, তাই বাড়তি চিনি না দিয়েও খাওয়া যায়। দুধ বা দই যেটাই ব্যবহার করুন, পরিবেশনের আগে পর্যন্ত ঠান্ডা রাখুন।
7. পাউরুটির সবজি টোস্ট: দশ মিনিটের রান্নাঘর অভিযান

ইফতারের আগে হঠাৎ অতিথি এলেন। ফ্রিজে বিশেষ কিছু নেই। আছে কয়েক টুকরা পাউরুটি, একটা ডিম আর কিছু সবজি।
এমন সময় পাউরুটির সবজি টোস্ট বেশ কাজে আসে।
চার টুকরা পাউরুটির জন্য একটি ডিম ফেটিয়ে তাতে দুই টেবিল চামচ গাজর কুচি, সামান্য পেঁয়াজ, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ ও লবণ মেশান।
পাউরুটির এক পাশে মিশ্রণটি পাতলা করে লাগিয়ে দিন। অল্প তেল মাখানো প্যানে ডিম লাগানো পাশ নিচে দিয়ে মাঝারি থেকে কম আঁচে সেঁকে নিন। ডিম পুরোপুরি জমে গেলে উল্টে অন্য পাশ হালকা মচমচে করুন।
টোস্টগুলো ত্রিভুজ করে কেটে দিলে পরিবেশনও সুন্দর লাগে।
এই নাস্তার সঙ্গে টমেটোর চাটনি বা সাধারণ টক দইয়ের ডিপ ভালো মানায়। টোস্ট বানানোর সময় খুব বেশি সবজি দিলে ডিমের মিশ্রণ পাউরুটি থেকে পড়ে যেতে পারে, তাই পরিমাণটা সামলে নিন।
8. ঘরোয়া সবজি স্যুপ, পেটের জন্য একটু আরাম

ইফতারের টেবিলে সব সময় যে মচমচে কিছু লাগবেই, এমন কোনো কথা নেই। মাঝেমধ্যে এক বাটি গরম স্যুপও বেশ ভালো লাগে।
বিশেষ করে সারাদিন রান্নার গন্ধে যাঁর নিজেরই খাওয়ার ইচ্ছা কমে গেছে, তাঁর জন্য হালকা স্যুপ হতে পারে আরামদায়ক একটি খাবার।
একটি ছোট গাজর, আধা কাপ বাঁধাকপি, কয়েকটি শিম এবং ছোট এক টুকরা আলু কেটে নিন। হাঁড়িতে দুই কাপ পানি দিয়ে সবজি সিদ্ধ করুন। স্বাদ অনুযায়ী লবণ, সামান্য গোলমরিচ ও আদা কুচি দিন।
সবজি নরম হলে নামিয়ে ফেলুন। স্যুপ সামান্য ঘন করতে চাইলে দু-এক টুকরা সিদ্ধ আলু চটকে মিশিয়ে দিতে পারেন।
পুরো রান্নায় প্রায় ১৫–২০ মিনিট লাগতে পারে, সবজির টুকরার আকার অনুযায়ী।
চাইলে কিছু সেদ্ধ মুরগির মাংসও যোগ করা যায়। এতে স্যুপটি আরও ভরাট হবে। তবে ইফতারের সময় পরিবেশনের আগে একটু ঠান্ডা করে নেবেন, যাতে অতিরিক্ত গরম না থাকে।
9. সুজির নরম সবজি প্যানকেক
বেগুনি-পেঁয়াজুর ভিড়ে একদিন সুজি দিয়ে নাস্তা বানালে কেমন হয়?
এক কাপ সুজির সঙ্গে আধা কাপ টক দই, প্রয়োজনমতো পানি, সামান্য লবণ, গাজর কুচি, পেঁয়াজ ও ধনেপাতা মিশিয়ে একটি ঘন গোলা তৈরি করুন।
গোলাটা ১০ মিনিট রেখে দিন, যাতে সুজি পানি শুষে নরম হয়। এরপর প্রয়োজনে আরও একটু পানি দিয়ে এমন ঘনত্ব করুন, যাতে চামচ দিয়ে প্যানে ছড়ানো যায়।
গরম প্যানে অল্প তেল মেখে ছোট ছোট প্যানকেকের মতো গোলা ছড়িয়ে দিন। মাঝারি থেকে কম আঁচে ঢেকে রান্না করুন। এক পাশ জমে গেলে সাবধানে উল্টে অন্য পাশ সেঁকে নিন। ভেতরটাও পুরোপুরি সেদ্ধ হয়েছে কি না দেখে নামাবেন।
সঙ্গে ধনেপাতার চাটনি বা টক দই দিলেই জমে যাবে।
সুজির এই নাস্তাটি ছোট আকারে বানালে পরিবেশন করতে সুবিধা হয়। আর প্রথম প্যানকেকটা একটু বাঁকাচোরা হলে মন খারাপের কিছু নেই। রান্নাঘরের প্রথম প্যানকেকের চেহারা নিয়ে খুব একটা বিচার না করাই ভালো!
10. ফল-বাদামের রঙিন বাটি

ইফতারের সব প্রস্তুতি শেষ, কিন্তু টেবিলে কিছু একটা কম মনে হচ্ছে?
এক বাটি ফলের সালাদ সেই ফাঁকা জায়গাটা বেশ সুন্দরভাবে পূরণ করতে পারে।
এতে দামি ফল ব্যবহার করার দরকার নেই। পেয়ারা, কলা, পেঁপে, আপেল কিংবা কমলা—যা পাওয়া যায়, তা দিয়েই বানানো সম্ভব।
দুই থেকে তিনজনের জন্য মোট দুই কাপ কাটা ফল নিন। সঙ্গে এক টেবিল চামচ বাদাম কুচি, অল্প লেবুর রস আর চাইলে কয়েকটি ডালিমের দানা দিন।
সব ফল ছোট টুকরা করে মিশিয়ে নিন। খাওয়ার ঠিক আগে বাদাম ছড়িয়ে দিন, যাতে মচমচে থাকে।
ইচ্ছা হলে অল্প টক দই মিশিয়ে ক্রিমের মতো ঘন ভাব আনতে পারেন। তবে ফলের নিজস্ব স্বাদ পাওয়ার জন্য বাড়তি চিনি বা মিষ্টি সিরাপ না দেওয়াই ভালো।
রঙিন ফলের বাটি দেখে বাড়ির কেউ যদি বলেন, ‘আজ তো ইফতারে বেশ আয়োজন!’—তাঁকে ফল কাটার সহজ কাজটার কথা না বললেও চলবে।
ইফতারের প্রস্তুতিতে একটু বুদ্ধি খাটালে রান্নাঘরেও স্বস্তি
রমজানে সবচেয়ে ঝামেলার সময়টা অনেক বাড়িতেই ইফতারের আগের শেষ আধঘণ্টা। তখন একসঙ্গে শরবত বানানো, খাবার গরম করা, প্লেট সাজানো—সব কাজ যেন হঠাৎ জরুরি হয়ে ওঠে।
আগের রাতে কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে এই তাড়াহুড়ো অনেকটাই কমানো যায়।
- ছোলা আগেই সিদ্ধ করুন। ঠান্ডা করে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফ্রিজে রাখুন। সাধারণত ৩–৪ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন; বেশি দিন রাখতে হলে হিমায়িত করুন।
- বাদাম ও খেজুর আলাদা পাত্রে রাখুন। প্রয়োজনের সময় দ্রুত বের করা যাবে।
- টিকিয়া আগে গড়ে রাখুন। কাঁচা ডিম বা অন্য পচনশীল উপকরণ থাকলে ফ্রিজে রাখুন এবং পরদিন ভালোভাবে রান্না করুন।
- মুড়ি শেষ মুহূর্তে মাখান। আগে মাখিয়ে রাখলে মচমচে ভাব হারাবে।
- ফল ও দইয়ের খাবার ঠান্ডা রাখুন। কাটা ফল বা দই দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখবেন না।
আর একটা কথা, দশটি খাবারের আইডিয়া আছে বলে একদিনেই দশটি বানানোর কোনো প্রতিযোগিতা নেই। প্রতিদিন দু-তিন ধরনের খাবার বদলে বদলে দিলেই ইফতারের টেবিলে বৈচিত্র্য আসে।
ইফতারে পেট ভরে খাওয়া আর বেশি খেয়ে ফেলা এক কথা নয়
সারাদিন রোজা রাখার পর সামনে গরম পেঁয়াজু, মচমচে আলুর টিকিয়া আর ঠান্ডা শরবত থাকলে একটু বেশি খেতে ইচ্ছা করতেই পারে। কিন্তু পেটেরও একটা সীমা আছে। সে তো আর ইফতারের দাওয়াতে সব খাবার একসঙ্গে পরীক্ষা করার দায়িত্ব নেয়নি!
ইফতারে পানি ও খেজুর দিয়ে শুরু করতে পারেন। এরপর পরিমাণ বুঝে ছোলা, ডিম, সবজি বা অন্যান্য নাস্তা খান। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ে নিয়মিত পানি পান করাও দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যকর খাদ্যবিষয়ক নির্দেশনায় ফল, সবজি ও বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি সীমিত রাখার পরামর্শ রয়েছে।
ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে খাবারের পরিমাণ ও রোজা রাখার বিষয়ে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পরামর্শ মেনে চলুন। আর বাদাম ব্যবহারের সময় পরিবারের কারও বাদামে অ্যালার্জি আছে কি না, সেটাও খেয়াল রাখবেন।
ইফতারের টেবিলে আসল মজাটা কোথায়?
ইফতারের পাঁচ মিনিট আগে ছোট ভাই হয়তো বারবার জানতে চাইছে, ‘আর কতক্ষণ?’ কেউ গ্লাসে পানি ঢালছেন, কেউ খেজুর সাজাচ্ছেন। রান্নাঘর থেকে শেষ টিকিয়াটা নামতেই আজানের সময় হয়ে গেল।
টেবিলে হয়তো সাত রকম খাবার নেই। আছে খেজুর, একটু ছোলার সালাদ, কয়েকটা আলুর টিকিয়া আর ফলের বাটি।
তাতে কী?
ইফতারের আনন্দ তো শুধু কত পদের খাবার রান্না হলো, সেই হিসাবে আটকে থাকে না। পরিবারের সবাই মিলে বসা, দিনের গল্প করা, পাশের মানুষটির প্লেটে একটা খেজুর এগিয়ে দেওয়া—এসবেরও আলাদা স্বাদ আছে।
পাণ্ডাবাড়ির রান্নাঘরের গল্পেও এমন সহজ আয়োজনের জায়গা সব সময় আছে। কারণ ভালো খাবারের জন্য সব সময় বিশাল বাজারের তালিকা লাগে না। কখনো ঘরে থাকা সামান্য উপকরণ আর একটু নতুনভাবে ভাবার ইচ্ছাই যথেষ্ট।
আর আগামীকাল যদি কেউ আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘আজ ইফতারে কী হবে?’
তখন অন্তত দশটা উত্তর হাতে আছে!
