ডিমের ঝোল রেসিপি: আলু দিয়ে ঘরোয়া স্বাদে মজাদার ডিমের ঝোল রান্নার সহজ নিয়ম - Pandabari.com

কল করুন: 01799-377-366

Free delivery on all orders over ৳1100

ডিমের ঝোল রেসিপি: আলু দিয়ে ঘরোয়া স্বাদে মজাদার ডিমের ঝোল রান্নার সহজ নিয়ম

দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে আলু আর ডিমের ঝোল থাকলে অনেক বাড়িতেই আলাদা কোনো তরকারির খোঁজ পড়ে না। নরম আলু, হালকা মসলার ঝোল আর হলুদে মাখানো ভাজা ডিম, পরিচিত এই রান্নাটার স্বাদই আলাদা। বিশেষ করে ঝোলটা যখন ভাতের সঙ্গে মিশে যায়, তখন আরেকটু ভাত নেওয়ার ইচ্ছা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

ডিমের ঝোল রেসিপি খুব কঠিন কিছু নয়। চারটি ডিম, দুটি আলু, পেঁয়াজ, আদা-রসুন আর কয়েকটি সাধারণ মসলা দিয়েই প্রায় ৪০ মিনিটে রান্না করা যায়। আসল কৌশল হলো ডিম বেশি না ভাজা, মসলা ভালোভাবে কষানো এবং আলু সেদ্ধ হওয়ার পর ঝোলের ঘনত্ব ঠিক রাখা।

আলু ও ডিম দিয়ে রান্না করা মসলাদার ঝোলের উদাহরণ

ডিমের ঝোল রান্নার সময় ও পরিমাণ

পরিবেশন৪ জন
প্রস্তুতির সময়১৫ মিনিট
রান্নার সময়২৫ মিনিট
মোট সময়প্রায় ৪০ মিনিট
রান্নার ধরনঘরোয়া বাংলাদেশি
ঝোলের ধরনমাঝারি পাতলা, চাইলে ঘন করা যায়

ডিমের ঝোল রান্নার উপকরণ

ভালো ডিমের তরকারি রান্না করতে খুব বেশি মসলা লাগে না। রান্নাঘরে সাধারণত যেসব উপকরণ থাকে, সেগুলো দিয়েই এই রেসিপি তৈরি করা সম্ভব।

  • ডিম: ৪টি
  • আলু: ২টি মাঝারি
  • পেঁয়াজ কুচি: ২টি মাঝারি পেঁয়াজ
  • আদাবাটা: ১ চা-চামচ
  • রসুনবাটা: ১ চা-চামচ
  • টমেটো কুচি: ১টি ছোট (ঐচ্ছিক)
  • হলুদ গুঁড়া: ১ চা-চামচ
  • মরিচ গুঁড়া: ১ চা-চামচ বা স্বাদমতো
  • জিরা গুঁড়া: ১ চা-চামচ
  • ধনে গুঁড়া: ½ চা-চামচ
  • তেজপাতা: ১টি
  • দারুচিনি: ১ টুকরা ছোট
  • এলাচ: ২টি
  • কাঁচা মরিচ: ৩–৪টি
  • সয়াবিন বা সরিষার তেল: ৩ টেবিল-চামচ
  • লবণ: স্বাদমতো
  • গরম পানি: ২–২½ কাপ
  • গরম মসলা গুঁড়া: ¼ চা-চামচ


একটি ছোট পরামর্শ: একটু হালকা ঝোল চাইলে টমেটো বাদ দিতে পারেন। আবার ঝোলে হালকা টক স্বাদ আর লালচে রং চাইলে একটি ছোট পাকা টমেটো ব্যবহার করুন।

ডিমের ঝোল রান্নার নিয়ম: ধাপে ধাপে

১. ডিম সেদ্ধ করে প্রস্তুত করুন

প্রথমে একটি হাঁড়িতে ডিমগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত পানি দিন। পানি ফুটতে শুরু করার পর মাঝারি আঁচে প্রায় ১০–১২ মিনিট সেদ্ধ করুন, যাতে কুসুম ভালোভাবে জমে যায়।

সেদ্ধ ডিম ঠান্ডা পানিতে কিছুক্ষণ রেখে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার ছুরি দিয়ে প্রতিটি ডিমের গায়ে দু-একটি অগভীর চিরা দিন।

ডিমের গায়ে সামান্য হলুদ ও লবণ মাখিয়ে রাখুন। চিরা খুব গভীর করবেন না, তাহলে ভাজার সময় ডিমের সাদা অংশ ফেটে যেতে পারে।

২. ডিম ও আলু হালকা ভেজে নিন

কড়াইয়ে তেল গরম করে মাঝারি আঁচে ডিমগুলো দিন। চারপাশে হালকা সোনালি রং এলেই তুলে নিন। সাধারণত ১–২ মিনিট যথেষ্ট।

আলু খোসা ছাড়িয়ে মাঝারি আকারে চার টুকরা করে নিন। একই তেলে আলুগুলো ৩–৪ মিনিট নেড়েচেড়ে ভাজুন।

আলু এখনই পুরোপুরি সেদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। পরে ঝোলে রান্না হতে হতে ভেতরটা নরম হয়ে যাবে।

ডিম বেশি সময় ভাজবেন না। অতিরিক্ত ভাজলে বাইরের অংশ শক্ত ও চিবানোর মতো হয়ে যেতে পারে।

৩. পেঁয়াজ ও মসলা কষিয়ে নিন

ডিম ও আলু তুলে রাখার পর একই কড়াইয়ের তেলে তেজপাতা, দারুচিনি ও এলাচ দিন। কয়েক সেকেন্ড নেড়ে পেঁয়াজ কুচি যোগ করুন।

পেঁয়াজ নরম হয়ে হালকা সোনালি রং ধরলে আদাবাটা ও রসুনবাটা দিন। কাঁচা গন্ধ কমে আসা পর্যন্ত নাড়ুন।

এবার হলুদ, মরিচ, জিরা ও ধনে গুঁড়া ২–৩ টেবিল-চামচ পানির সঙ্গে মিশিয়ে কড়াইয়ে দিন। টমেটো ব্যবহার করলে এই সময় যোগ করুন।

মাঝারি থেকে কম আঁচে মসলা কষাতে থাকুন। মসলা শুকিয়ে কড়াইয়ে লেগে যেতে চাইলে অল্প পানি ছিটিয়ে দিন।

মসলা কষানো শেষ হওয়ার লক্ষণ হলো পেঁয়াজ-টমেটো নরম হয়ে একসঙ্গে মিশে যাওয়া, কাঁচা গন্ধ কমে আসা এবং মসলার ধার ঘেঁষে তেল দেখা যাওয়া।

৪. আলু দিয়ে ঝোল তৈরি করুন

কষানো মসলায় ভাজা আলু দিয়ে ২ মিনিট নাড়ুন। এতে আলুর গায়েও মসলা লেগে যাবে।

এবার ২–২½ কাপ গরম পানি ও স্বাদমতো লবণ দিন। ঢেকে মাঝারি আঁচে প্রায় ১০–১২ মিনিট রান্না করুন।

আলু সেদ্ধ হয়েছে কি না বুঝতে একটি টুকরায় কাঁটাচামচ ঢুকিয়ে দেখুন। সহজে ঢুকে গেলে বুঝবেন আলু নরম হয়েছে।

ঝোল বেশি পাতলা মনে হলে ঢাকনা খুলে আরও কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিতে পারেন।

৫. ডিম দিয়ে রান্না শেষ করুন

আলু প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে ভাজা ডিমগুলো ঝোলে দিন। সঙ্গে চেরা কাঁচা মরিচ যোগ করুন।

কম থেকে মাঝারি আঁচে আরও ৪–৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এতে ডিমের বাইরের অংশে ঝোলের মসলা ভালোভাবে লেগে যাবে।

শেষে চাইলে এক চিমটি গরম মসলা ছিটিয়ে চুলা বন্ধ করুন। ঢেকে ২–৩ মিনিট রেখে তারপর পরিবেশন করুন।

গরম ভাতের পাশে এক বাটি ঝোল তুলে দিলেই খাবার প্রস্তুত।

সেদ্ধ ডিম ও আলুর ঝোলের আরেকটি পরিবেশন উদাহরণ

ঝোল ঠিকঠাক না হলে কী করবেন?

ঝোল বেশি পাতলা হলে ঢাকনা খুলে মাঝারি আঁচে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে পানি কমান। চাইলে নরম হয়ে যাওয়া এক টুকরা আলু সামান্য ভেঙে মিশিয়ে দিন।

ঝোল ঘন হয়ে গেলে অল্প গরম পানি দিয়ে একবার ফুটিয়ে নিন। একসঙ্গে অনেক পানি দিলে মসলার স্বাদ হালকা হয়ে যেতে পারে।

মসলায় তিতকুটে স্বাদ এলে সম্ভবত মসলা পুড়েছে। পোড়া অংশ চেঁছে না তুলে অন্য পাত্রে যতটা সম্ভব ভালো অংশ সরিয়ে নিন। পরেরবার মসলায় পানি মিশিয়ে কম আঁচে কষান।

আলু শক্ত রয়ে গেলে ডিম দেওয়ার আগে আরও কিছুক্ষণ ঢেকে রান্না করুন। আলু সেদ্ধ হওয়ার আগে ডিম দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ফুটালে ডিম শক্ত হয়ে যায়।

আরও একটু ঘরোয়া স্বাদের জন্য

পাতলা ডিমের ঝোলের জন্য পানি একটু বাড়িয়ে নিন, কিন্তু মসলা কষানোর ধাপ বাদ দেবেন না। সরিষার তেল ব্যবহার করলে আলাদা ঝাঁজ পাওয়া যায়। হালকা স্বাদ পছন্দ হলে সয়াবিন তেলও যথেষ্ট।

কারও বাড়িতে এই রান্নায় টমেটো পড়ে, কোথাও আবার পেঁয়াজ আর জিরার স্বাদই বেশি প্রাধান্য পায়। ডিমের ঝোলের এই ছোটখাটো বদলগুলোই ঘরভেদে রান্নাটাকে আলাদা করে।

কিসের সঙ্গে পরিবেশন করবেন?

সাদা ভাতের সঙ্গে এই ঝোল সবচেয়ে পরিচিত। রুটি বা পরোটার সঙ্গে খেতে চাইলে পানি একটু কমিয়ে ঝোল ঘন রাখুন। সঙ্গে শসা-পেঁয়াজের সালাদ কিংবা লেবুর টুকরা থাকলে খাবারের স্বাদে হালকা সতেজ ভাব আসে।

বেঁচে যাওয়া ডিমের ঝোল সংরক্ষণ

রান্নার পর বেশিক্ষণ বাইরে না রেখে ২ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে ঢাকনাওয়ালা পাত্রে রাখুন; খুব গরম পরিবেশে আরও দ্রুত ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা ভালো। সাধারণভাবে ৩–৪ দিনের মধ্যে খাওয়া নিরাপদতর, তবে গন্ধ বা চেহারা বদলালে ফেলে দিন। আবার খাওয়ার সময় ঝোল ও ডিম ভালোভাবে গরম করুন।

ডিমের ঝোল নিয়ে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন

ডিম না ভেজেও কি ঝোল রান্না করা যায়?

হ্যাঁ। সেদ্ধ ডিম সরাসরি ঝোলে দিতে পারেন। ভাজা ডিমের রং ও বাইরের আবরণ আলাদা হয়, তবে না ভাজলে তেলও কিছুটা কম লাগে।

আলু ছাড়া ডিমের ঝোল হবে?

অবশ্যই। আলু বাদ দিলে ঝোলের পানি কিছুটা কমিয়ে দিন এবং ডিমকে মসলার সঙ্গে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন।

ডিমের ঝোলে কতটুকু পানি দিতে হয়?

৪টি ডিম ও ২টি মাঝারি আলুর জন্য শুরুতে ২–২½ কাপ পানি ব্যবহার করা যায়। কড়াইয়ের আকার, আলুর ধরন ও পছন্দের ঘনত্ব অনুযায়ী কিছুটা কমবেশি লাগতে পারে।

পাণ্ডাবাড়ির রান্নাঘরের এই ঘরোয়া রেসিপিতে সবচেয়ে কাজে লাগে একটি ছোট অভ্যাস: ডিম দেওয়ার আগে ঝোলের লবণ আর আলু সেদ্ধ হওয়া একবার দেখে নেওয়া। তাতেই শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো অনেক কমে যায়।